আমরা আধুনিক হোমিওপ্যাথ

আমরা আধুনিক হোমিওপ্যাথ এবং কিডনি, গ্যাস্ট্রো লিভার, পুরুষদের যৌন সংক্রান্ত ও স্ত্রীরোগসমূহের হোমিওপ্যাথিক চিকিত্সায় বিশেষ পারদর্শী। পার্শ্ব প্রতিক্রিয়াহীন, সফল এবং আধুনিক হোমিওপ্যাথি চিকিত্সা গ্রহণ করুন, যা আপনার সকল জটিল শারীরিক সমস্যা সমূহকে মূল থেকে নির্মূল করে আপনাকে পুরোপুরি সুস্থ করে তুলবে ইনশাল্লাহ।

বি. দ্র.:- অবশ্যই পূর্বেকার করা সকল Medical Test এর রিপোর্ট সঙ্গে আনতে হবে। প্রয়োজনে আসার আগে ফোন দিয়ে ( 01727-382671, 01922-437435 ) বিস্তারিত জেনে নিবেন।

যোগাযোগ করুন

ডাক্তার আবুল হাসান
(ডিএইচএমএস, পিডিটি - বিএইচএমসি, ঢাকা)

বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ, ঢাকা
একিউট এবং ক্রনিক রোগের হোমিও চিকিত্সক
আধুনিক হোমিওপ্যাথি, ১০৬ দক্ষিন যাত্রাবাড়ী, শহীদ ফারুক রোড, ঢাকা ১২০৪
ফোন: ০১৭২৭-৩৮২৬৭১, ০১৯২২-৪৩৭৪৩৫

স্ত্রীরোগ সমূহ

  • স্তন টিউমার
  • ডিম্বাশয়ে টিউমার
  • ডিম্বাশয়ের সকল প্রকার সিস্ট
  • জরায়ুতে টিউমার/জরায়ু নিচে নেমে আসা
  • যোনিতে প্রদাহ/অনিয়মিত মাসিক/বন্ধ্যাত্ব
  • লিউকোরিয়া/ অতিরিক্ত স্রাব

পুরুষের সমস্যা

  • যৌন দুর্বলতা/দ্রুত বীর্যপাত
  • স্পারম্যাটোরিয়া এবং অতিরিক্ত স্বপ্নদোষ
  • হস্তমৈথুন অভ্যাস ও এ সংক্রান্ত জটিলতা
  • পুরুষত্বহীনতা বা ধ্বজভঙ্গ
  • সিফিলিস এবং গনোরিয়া
  • প্রসাবে সংক্রমন/জ্বালাপোড়া

কিডনি সমস্যা

  • কিডনি পাথর
  • কিডনি সিস্ট
  • কিডনি সংক্রমণ
  • কিডনি প্রদাহ/ইনফেকশন
  • কিডনি বিকলতা
  • প্রসাবে রক্ত, প্রসাব না হওয়া

লিভার সমস্যা

  • জন্ডিস
  • লিভার সিরোসিস
  • লিভার ক্যান্সার
  • যকৃত ফোড়া
  • HBsAg (+ve)

পরিপাকতন্ত্রের সমস্যা

  • গ্যাস্ট্রিক আলসার, কোষ্ঠকাঠিন্য
  • নতুন এবং পুরাতন আমাশয়
  • ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোম (IBS)
  • ইনফ্লামেটরি বাওয়েল ডিজিজ (IBD)
  • এনাল ফিসার, পাইলস, ফিস্টুলা

অন্যান্য স্বাস্থ্য সমস্যা

  • বাতজ্বর (মাত্র ৩/৪ মাসের চিকিত্সা)
  • লিউকেমিয়া এবং থ্যালাসেমিয়া
  • সাইনোসায়টিস
  • চর্মরোগ
  • মাইগ্রেন

সাম্প্রতিক প্রকাশিত

জেনে রাখা ভালো

অ্যালোপ্যাথির ক্ষেত্রে ক্রমবর্ধমান রোগ, জটিলতা এবং নিরাময়ে ব্যর্থতার ফলে ক্রমশ হোমিওপ্যাথির মতো বিকল্প চিকিৎসা ব্যবস্হাগুলো জনপ্রিয়তা লাভ করছে ৷ আগে তো অ্যালোপ্যাথিকের বিখ্যাত ডাক্তারও হোমিওপ্যাথিকে সম্বল করে নানা সময় চিকিৎসার কাজ করেছেন ৷ অ্যালোপ্যাথির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কারণে লোকজন আজ খুবই বিরক্ত ৷ লন্ডন হাসপাতালের বিখ্যাত ডাক্তার ডঃ পিটার ফিসার বলেন যে, লন্ডনের বুকে হোমিওপ্যাথির জনপ্রিয়তা দুরন্ত গতিতে বাড়ছে ৷ হোমিওপ্যাথিক হাসপাতালগুলোর জন্য ব্রিটিশ সরকার বছরে এখন চার মিলিয়ন পাউন্ড করে খরচ করে৷
জটিল এবং দুরারোগ্য রোগে ভুগতে থাকা রোগিদের জীবনে সত্যিকারের ত্রাতার ভূমিকা নিতে পারে হোমিওপ্যাথি ৷ এর কল্যাণে বহু মানুষ নতুনভাবে নিজেদের জীবন শুরু করতে পেরেছে ৷ যথেষ্ট ভরসাযোগ্য ফলাফল দেখানো সত্ত্বেও অ্যালোপ্যাথিক চিকিৎসক এবং বিশেষজ্ঞরা হোমিওপ্যাথিকে উপযুক্ত সম্মান দিতে নারাজ ৷ কারণ, অ্যালোপ্যাথি লবি যথেষ্ট অনিশ্চয়তায় ভুগছে৷ তাদের আশঙ্কা, পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় ভুগতে থাকা অ্যালোপ্যাথিক রোগীরা যদি হোমিওপ্যাথির দিকে পা বাড়ায়, তাহলে তাদের ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হবে ৷

সোমবার, ৩০ এপ্রিল, ২০১৮

বিয়ের পূর্বে যৌন মিলন বা সেক্স করলে স্বামী কি সেটা বুঝতে পারবে ?

বিয়ের পূর্বে স্ত্রী অন্য কারো সাথে যৌন মিলন বা সেক্স করেছে কিনা তা বুঝার উপায় কি - ছেলেরাই এই ধরণের প্রশ্ন করে থাকে। আবার অনেক মেয়েও প্রশ্ন করে থাকে - কোনো মেয়ে বিয়ের আগে ২বার সেক্স করলে বিয়ের পর তার স্বামী কি বুঝতে পারে?

এটা আপনার যোনিদ্বারের উপর নির্ভর করবে। দুই বার সঙ্গম করার ফলে আপনার যোনিপথ যদি ফ্রি হয়ে যায় তাহলে আপনার স্বামী বুঝতে বাকী থাকবে না যে আপনি বিবাহের পূর্বে সঙ্গম করেছেন। কেননা কম বেশি সবাই জানে যে প্রথম সঙ্গমে স্বামী–স্ত্রীর উভয়রই কষ্ট হয়। এবং প্রত্যেক ছেলে মেয়ে জানে যে প্রথম সঙ্গমে সতিচ্ছেদ ছেড়ার কারণে সামান্য রক্তপাতও হয়।
বিয়ের আগে যৌন মিলন বা সেক্স করলে স্বামী কি সেটা বুঝতে পারবে ?
আবার অনেক ক্ষেত্রে পূর্বে সঙ্গম না করার কারণেও প্রথম মিলনে রক্তপাত নাও হতে পারে। কেননা খেলাধুলার কারণেও সতীচ্ছেদ ছিড়ে যেতে পারে। এটা যদি আপনার স্বামী জানে তাহলে প্রথমে সন্দেহ নাও করতে পারে কিন্তু এটা যদি সে না জানে তাহলে আপনি প্রথমেই সন্দের তালিকায় চলে যাবেন।

তারপর হচ্ছে কয়েকবার সঙ্গম করার ফলে যোনি পথ ফ্রি হয়ে যাওয়া। প্রথম কয়েকবার মিলনে পুরুষাঙ্গ যোনিপথে চলাচল করতে কিছুটা বেগ পেতে হয় কিন্তু পরবর্তীতে সেটা আর থাকে। তখন যোনি পথ ফ্রি হয়ে যায় যার কারণে যোনিপথে পুরুষাঙ্গ অনায়াসে চলাচল করতে পারে।

এখন এটা যদি আপনার ক্ষেত্রে হয়ে যায় তাহলে আপনার স্বামীকে বুঝতে বাকী থাকবে না কিন্তু এটা যদি আপনার ক্ষেত্রে না হয় তা হলে হয়ত বেঁচেই গেলেন। আর যদি সে বুঝতে পারে তাহলে সংসারে অশান্তি নেমে আসতে পারে। কেননা অবৈধ সম্পর্কের ফলাফল ভালো হয় না সেটা বাস্তবে প্রমাণিত। আপনার যদি ভাগ্য ভালো হয় তাহলে আপনি দুনিয়া যাত্রা থেকে হয়ত রেহায় পেতে পারেন। কিন্তু পরকালে আমানতের খেয়ানত করার জন্য আল্লাহর কাঠগড়ায় আপনাকে জবাব দিহি করতে হবে। সময় তো ফুরিয়ে যায়নি? আল্লাহর কাছে ফানাহ চান নিশ্চয় আল্লাহ আপনাকে সাহায্য করবেন।
বিস্তারিত

রবিবার, ২২ এপ্রিল, ২০১৮

সিফিলিস এবং গনোরিয়া - যে রোগের পরিণতি ভয়াবহ (সতর্ক হন !!)

সিফিলিস (Syphilis) এবং গনোরিয়া (Gonorrhea) - যে রোগের পরিণতি ভয়াবহ, কারণ এই কারণে হয়তো আপনার শুক্রনালি বন্ধ হয়ে যায় এবং শুক্রাশয় নষ্ট হয়ে যেতে পারে। সমাজ-সভ্যতা যত এগোচ্ছে, যৌন রোগের ঝুঁকি ও এ নিয়ে সচেতনতা ততই বাড়ছে। অনেকে এ রোগকে একেবারেই আমলে নিতে চান না আবার অনেকে এ রোগে আক্রান্ত হলে মুষড়ে পড়েন।

সিফিলিসে জটিলতা : সিফিলিসে ৩০ ভাগ রোগী এমনিতেই ভালো হয়ে যেতে পারে। বাকি ৭০ ভাগের মধ্যে ৩০ জনের সুপ্ত সিফিলিস জীবনব্যাপী থাকতে পারে। অর্থাৎ এরা উপসর্গবিহীন থাকে। বাকি ৪০ শতাংশের স্নায়ুতন্ত্র ও হৃদযন্ত্রে সিফিলিসের জটিলতা দেখা যায়।
সিফিলিস এবং গনোরিয়া - যে রোগের পরিণতি ভয়াবহ
গর্ভবতীর এ রোগের জীবাণু থেকে গর্ভপাত হতে পারে কিংবা আক্রান্ত শিশু সিফিলিস নিয়ে জন্মগ্রহণ করে। সিফিলিসের চিকিৎসা তাই সবাইকে গুরুত্ব সহকারে নিতে হবে।

গনোরিয়ার জটিলতা : শুক্রনালি বন্ধ হয়ে যায় এবং শুক্রাশয় নষ্ট হয়ে যেতে পারে। স্ত্রীসঙ্গমে সমস্যা দেখা না দিলেও সন্তান জন্ম দেয়ার সম্ভাবনা কমে যায়, কারণ বীর্যকোষ সঠিকভাবে তৈরি হয় না। হলেও ভাসনল দিয়ে তা বের হতে পারে না। চিকিৎসা না নিলে প্রস্টেট গ্রন্থিতেও সমস্যা দেখা দিতে পারে। মূত্রনালির সমস্যা যেমন প্রস্রাব করতে অসুবিধা, মূত্রনালি সংকীর্ণ হলে প্রস্রাব আটকে যাওয়ার মতো সমস্যা হয়।

নারীর গনোরিয়ায় ডিম্বনালির ছিদ্র বন্ধ হয়ে যায় এবং মা হওয়ার সম্ভাবনা হারিয়ে যায়। ঘন ঘন প্রস্রাব হয় এবং গর্ভবতী হলেও অনাগত শিশুর চোখ আক্রান্ত হয়। গনোরিয়ার নারী-পুরুষ উভয়ের হাঁটু ও গোড়ালি ফুলে পুঁজ জমে।

কার্যকর চিকিৎসা : হাঁ, আপনি ঠিকই জেনেছেন - সিফিলিস এবং গনোরিয়া রোগের পরিণতি ভয়াবহ তবে সেটা তখনই ভয়াবহ হবে যদি ঠিক সময়ে সঠিক চিকিৎসাটি আপনি না নিতে পারেন। আর এই রোগ মূল থেকে নির্মূলের অব্যর্থ চিকিৎসা হল হোমিওপ্যাথি। যদি কেউ এই রোগে আক্রান্ত হয়ে থাকেন তাহলে রেজিস্টার্ড এবং অভিজ্ঞ একজন হোমিও ডাক্তারের পরামর্শক্রমে চিকিৎসা নিন - আশা করি সুফল পাবেন।
বিস্তারিত

বুধবার, ১৮ এপ্রিল, ২০১৮

হস্তমৈথুনের ফলে দ্রুত বীর্যপাত হচ্ছে। ছেড়ে দিলে সমস্যা সমাধান হবে?

একজন ইমেইল করেছেন - আমার বয়স ১৮। আমি তিনবছর যাবৎ হস্তমৈথুন করে আসছি।এখন আমার দ্রুত বীর্যপাত হয়ে যায় হস্তমৈথুনে। এখন যদি হস্তমৈথুন ছেড়ে দিই আমার সমস্যাগুলো সমাধান হবে কি?

উত্তর : দীর্ঘদিন হস্তমৈথুনে করলে এর কিছু কুফল তৈরী হয় যার কিছু কিছু উপসর্গ আগেই প্রকাশ পায় তবে আরো ভালোভাবে বুঝা যায় বাস্তব স্ত্রী মিলনের সময়। তখন যদি সমস্যা হয় তাহলে অভিজ্ঞ কোন হোমিও ডাক্তারের পরামর্শক্রমে চিকিৎসা নিলেই ঠিক হয়ে যাবেন। কারণ হস্তমৈথুন এবং এ সংক্রান্ত যাবতীয় কুফল দূর করার একমাত্র চিকিৎসা হলো হোমিওপ্যাথি। এটিই এখন সমগ্র বিশ্বে পুরুষের দ্রুত বীর্যপাত, যৌন অক্ষমতা, পুরুষাঙ্গ উত্থানহীনতা ইত্যাদি দূরীকরণে এক নম্বর চিকিৎসার তালিকায় আছে।
হস্তমৈথুনের ফলে দ্রুত বীর্যপাত হচ্ছে। ছেড়ে দিলে সমস্যা সমাধান হবে?
কারণ হোমিওপ্যাথির প্রতিটি ঔষধেই রয়েছে  রোগীর - শারীরিক, মানুষিক, চারিত্রিক, স্বভাবগত এবং যে রোগে আক্রান্ত হয়েছে সেই রোগের সুনির্দিষ্ট লক্ষণ। আর তাই তো হোমিওপ্যাথি এত কার্যকর এবং স্থায়ী একটি চিকিৎসা পদ্ধতি। এক্ষেত্রে একেক জনের ক্ষেত্রে একেক প্রকার লক্ষণ অর্থাৎ লক্ষণের ভিন্নতা থাকলেও অভিজ্ঞ হোমিওপ্যাথিক ডাক্তারদের এই রোগ স্থায়ী ভাবে সারাতে মোটেও বেগ পেতে হয় না।
আরো জেনে নিন -
তবে রেজিস্টার্ড এবং অভিজ্ঞ একজন হোমিও চিকিৎসকের পরামর্শক্রমে চিকিৎসা নেয়া বাঞ্ছনীয়। যদি কোন হোমিও ডাক্তারের চিকিৎসায় ফল না দেয় তাহলে ডাক্তার পরিবর্তন করুন। কারণ আপনার রোগ ভালো হচ্ছে না এর জন্য ঐ ডাক্তারের ঔষধ এবং ঔষধের পাওয়ার সিলেকশনে ভুল থাকতে পারে। এটা হোমিওপ্যাথির দোষ নয়। আর সব সময় অভিজ্ঞ এবং রেজিস্টার্ড হোমিও চিকিৎসকের পরামর্শক্রমে চিকিৎসা নেয়াই হলো অতি উত্তম।

আবার আসি আপনার প্রসঙ্গে -  আপনি হস্তমৈথুন ছেড়ে দিন তাতে আপনার মন মানুষিকতা পবিত্র থাকবে। আপাতত এ সংক্রান্ত সমস্যা নিয়ে চিন্তা না করাই ভালো, নিজের কাজে কর্মে মনোযোগ দিন। যদি সমস্যা মনে করেন তাহলে প্রয়োজনবোধে বিয়ের কয়েক মাস আগে চিকিৎসা নিতে পারেন। আরো কিছু জানার থাকলে নিচে আমার ফোন নম্বর দেয়া আছে - ফোনে যোগাযোগ করে জেনে নিবেন। ধন্যবাদ। 
বিস্তারিত

যৌন উত্তেজনা বৃদ্ধির ট্যাবলেট খেলে কি সমস্যা হবে ?

অনেকেই বলে থাকেন যৌন উত্তেজনা বৃদ্ধির ট্যাবলেট খেলে কোন সমস্যা হবে কি না। জেনে রাখা ভালো যেটি তাৎক্ষণিক ফল দিচ্ছে অবশ্যই এর বিপদজনক ক্ষতিকর দিক রয়েছে। আপনি শুরুতেই উত্তেজনা বৃদ্ধির রেজাল্ট পেয়ে খুশি হয়ে গেলেন কিন্তু এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াটা কিছুটা সময় পর বুঝবেন। তখন আপনার জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠবে।
যৌন উত্তেজনা বৃদ্ধির ট্যাবলেট খেলে কি সমস্যা হবে ?
প্রথম দিকে হয়তো কারো কারো ক্ষেত্রে এই সমস্যাগুলি দেখা দিয়ে থাকে - মাথাব্যাথা, শরীর ব্যথা এবং যন্ত্রনা, তীব্র গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা, দৃষ্টিশক্তির সমস্যা, যৌন শক্তির হ্রাস, যৌণ অক্ষমতা এটা দেখা দেয় পরবর্তীতে। কিছু কিছু ট্যাবলেট আপনার কিডনি এবং লিভারকেও নষ্ট করে দিবে। শুরুতে আপনি এই বিষয়গুলি বুঝবেন না কিন্তু সমস্যা ধরা পড়ার পর আর কিছুই করার থাকবে না। 
আপনার যদি যৌন সংক্রান্ত কোন সমস্যা থেকে থাকে সেটা অভিজ্ঞ কোন হোমিও ডাক্তারের পরামর্শক্রমে চিকিৎসা নিয়ে ঠিক করে নিতে পারেন। এর জন্য বার বার ঔষধ খাওয়ার আদৌ প্রয়োজন নেই। ভালো থাকুন, সুন্দর থাকুন। ধন্যবাদ।
বিস্তারিত

আমি দীর্ঘ ৩ বছর যাবত স্বপ্নদোষ রোগে ভুগছি - এর থেকে মুক্তি চাই

কিছু দিন আগে একজন বলছেন - আমি দীর্ঘ ৩ বছর যাবত স্বপ্নদোষ রোগে ভুগছি। এখন আমার বয়স ১৭ বছর। অতিরিক্ত হস্তমৈথুনের কারনে আমার এই সমস্যা। এটি বাদ দেয়ার পর থেকে আমার সপ্তাহে ২ বার করে স্বপ্নদোষ হচ্ছে। হোমিও ডাক্তার দেখিয়েছি, হারবাল, হামদর্দ, ভেষজ ঔষধ খেয়েছি। এমনকি BCS করা M.B.B.S ডাক্তারও দেখিয়েছি। কিন্তু কোন কাজ হয় নাই। এটি কি ভালো হবে না ?

উত্তর :- কেন ভালো হবে না। অন্যান্য রোগের মতো অতিরিক্ত স্বপ্নদোষ (Nightfall or Wet Dreams) হওয়াও একটি রোগ। আর এরও চিকিৎসা আছে। এলোপ্যাথিতে এর কোন কার্য্যকর চিকিৎসা নেই - তারা আপনাকে বিয়ে করার পরামর্শ দিবে, যা এই সমস্যার কোন যৌক্তিক সমাধান নয়। কিন্তু এই রোগের স্থায়ী চিকিৎসা রয়েছে হোমিওতে। এক্ষেত্রে আপনাকে অভিজ্ঞ একজন হোমিও ডাক্তারের পরামর্শক্রমে চিকিৎসা নিতে হবে।
বলে রাখা ভাল - সপ্তাহে ২ বারের বেশি বা  মাসে গড়ে ৫/৬ বারের বেশি স্বপ্নদোষ ক্রমাগত ভাবে হতে থাকলে এটিকে অতিরিক্ত ধরা হয়ে থাকে। সেই ক্ষেত্রে প্রপার ট্রিটমেন্ট ছাড়া এর থেকে মুক্তি পাওয়া কষ্টকর। অনেকেই আপনাকে দোয়া কালাম, আর কিছু নিয়ম কানুন পালন করার পরামর্শ দিবে - মনে রাখবেন প্রপার ট্রিটমেন্ট ছাড়া এই সমস্যা সহজেই ভালো হবার নয়। 
তবে আপনার আপাতত এটা নিয়ে চিন্তা না করারই ভালো। যেহেতু আপনার সপ্তাহে ২ বারের বেশি হচ্ছে না তাই এটিকে অতিরিক্ত বলা যাবে না। এক্ষেত্রে আপনি নিয়মিত পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণ করুন তাহলে শরীর স্বাস্থ সবই ঠিক থাকবে। তবে কারো কারো ক্ষেত্রে সপ্তাহে ২ বার হলে মাসে গড়ে ৮/৯ বার হয়ে যায়। সেক্ষেত্রে অনেকেই কিছুটা দুর্বলতায় ভুগেন এবং অনেকে মেজাজের ভারসাম্যহীনতায় ভুগেন - যা তার স্বাভাবিক কাজ কর্ম করার ক্ষেত্রে সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়। আপনার যদি এমনটি হয় তাহলে অভিজ্ঞ কোন হোমিও চিকিৎসকের সাথে পরামর্শ করে প্রপার ট্রিটমেন্ট নিন। সমস্যা ঠিক হতে বাধ্য। 
হোমিওপ্যাথির প্রতিটি ঔষধেই রয়েছে  রোগীর - শারীরিক, মানুষিক, চারিত্রিক, স্বভাবগত এবং যে রোগে আক্রান্ত হয়েছে সেই রোগের সুনির্দিষ্ট লক্ষণ। আর তাই তো হোমিওপ্যাথি এত কার্যকর এবং স্থায়ী একটি চিকিৎসা পদ্ধতি। বিভিন্ন রোগে একেক জনের ক্ষেত্রে একেক প্রকার লক্ষণ অর্থাৎ লক্ষণের ভিন্নতা থাকলেও অভিজ্ঞ হোমিওপ্যাথিক ডাক্তারদের রোগ স্থায়ী ভাবে সারাতে মোটেও বেগ পেতে হয় না। তাই এই রোগে আক্রান্ত হলে অযথাই অন্য দিকে ছুটাছুটি করে আপনার টাকা পয়সা এবং সময় নষ্ট না করে রেজিস্টার্ড এবং অভিজ্ঞ একজন হোমিও চিকিৎসকের পরামর্শক্রমে চিকিৎসা নিন। 

যদি কোন হোমিও ডাক্তারের চিকিৎসায় ফল না দেয় তাহলে ডাক্তার পরিবর্তন করুন। কারণ আপনার রোগ ভালো হচ্ছে না এর জন্য ঐ ডাক্তারের ঔষধ এবং ঔষধের পাওয়ার সিলেকশনে ভুল থাকতে পারে। এটা হোমিওপ্যাথির দোষ নয়। আর সব সময় অভিজ্ঞ এবং রেজিস্টার্ড হোমিও চিকিৎসকের পরামর্শক্রমে চিকিৎসা নেয়াই হলো অতি উত্তম। আরো কিছু জানার থাকলে নিচে আমার ফোন নম্বর দেয়া আছে - ফোনে যোগাযোগ করে জেনে নিবেন। ধন্যবাদ। 
বিস্তারিত

শনিবার, ১৪ এপ্রিল, ২০১৮

ধ্বজভঙ্গ রোগের প্রাকৃতিক এবং হোমিও চিকিৎসা

ধ্বজভঙ্গ রোগের কারণ, লক্ষণ, প্রাকৃতিক এবং হোমিও চিকিৎসা সমাধান বা ঔষধ সম্পর্কে জানতে চান। পুরুষাঙ্গে উত্তেজনার অভাব, উত্তেজনাহীনতা বা সল্পতা হেতু রতি শক্তির অভাবকেই ধ্বজভঙ্গ (Impotence) বলা হয়ে থাকে। ইহাতে পুরুষদের রতি ক্রিয়ার আংশিক বা সম্পূর্ণ সামর্থহীনতার ভাব প্রকাশ পায় এবং এ সমস্যায় পুরুষের পৌরষত্ব ভাব ধীরে দিরে লোপ পায়।

ধ্বজভঙ্গের কারণ সমূহ

আঘাত প্রাপ্তি, বহুমূত্র, সিফিলিস, গনোরিয়া, পুরাতন অন্ডকোষ প্রদাহ, দীর্ঘকাল যাবৎ অজীর্ণ রোগ, স্নায়বিক রোগ ইত্যাদি কারণে এই লক্ষণটি দেখা দিতে পারে। ইহাতে সন্তান উত্পাদন শক্তি লোপ পায়। অনেক চিকিত্সা বিজ্ঞানী ইহাকে রোগ বলে অভিহিত করতে চান না। ইহা যে কোন কঠিন জাতীয় পুরাতন রোগের লক্ষণ বিশেষ বলে তারা মনে করেন। পুরুষের যৌন উত্তেজনা ও যৌনতার স্থায়ীত্ব কম বেশি হয় কারণ তার দেহের হরমোনের ক্রিয়ার কম বেশি অবস্থা ঘটে। যৌন উত্তেজনা ও যৌন স্থায়ীত্ব কম হাওয়াই ধ্বজভঙ্গের লক্ষণ নয়।
ধ্বজভঙ্গ রোগের প্রাকৃতিক এবং হোমিও চিকিৎসা
কিছু ক্ষেত্রে দেখা যায় যে তার যৌন ক্ষমতা ঠিকই আছে কিন্তু মানসিক কারণে বা হীনমন্যতার জন্য ধ্বজভঙ্গ ভাব প্রকাশ পায়। অনেকেই যৌবন কালে কম বেশি বীর্য ক্ষয় করে থাকে এবং নানা প্রকার কৃত্রিম উপায় অবলম্বন করে বীর্য ক্ষয় করে তাদের মনে তাদের মনে অনেক সময় একটা ভুল ধারণার সৃষ্টি হয় যে তারা ধ্বজভঙ্গে আক্রান্ত, তার যৌন ক্ষমতা বোধ কম এমন একটা দুর্বলতা বিশেষ করে মানসিক দুর্বলতা তার মনে সৃষ্টি হয়। আবার কোন কোন সময় যৌন ক্ষমতা সামান্য কম হলে সে মনে করে তার যৌন ক্ষমতা নেই - ইহাও একটি ভুল ধারণা ।

অনেক সময় পুরুষের পেনিস সামান্য ছোট বড় হতে পারে, ইহা প্রকৃতির নিয়মে অথবা বংশগত ধারায়। কিন্তু ছোট বলে অনেক পুরুষ মনে করে যে সে যৌন কার্যে অক্ষম এবং তার ধ্বজভঙ্গ রোগ হয়েছে - এটাও ভুল ধারণা । বেশি পরিশ্রম, পুষ্টির অভাব, দেহে উপযুক্ত প্রোটিন, ভিটামিন প্রভৃতির অভাব হলেও এটি হতে পারে।

প্রকৃত ধ্বজভঙ্গ রোগ এবং জন্মগত ভাবে ধ্বজভঙ্গ রোগ এই দুই শ্রেণীতে ইহাকে বিভক্ত করা হয়ে থাকে। মানসিক বা দৈহিক কারণে যদি এই রোগ হয় তবে তাকে প্রকৃত ধ্বজভঙ্গ বলা যায়। আবার যদি জন্মগত ভাবে হয় তখন তাকে ধ্বজভঙ্গ রোগ বলা যায়। মানসিক বা দৈহিক কারণে এই রোগ হলে তার ট্রিটমেন্ট করা যায় কিন্তু জন্মগত ভাবে হলে তার চিকিত্সা করে আরোগ্য করাটা বেশ কঠিন। এবার আসুন প্রকৃত এবং জন্মগত ধ্বজভঙ্গ রোগের ক্ষেত্রে কি কি পার্থক্য পরিলক্ষিত হয় তা দেখি :-

জন্মগত ধ্বজভঙ্গ রোগের লক্ষণ

  • যৌবন আগমনের সঙ্গে পুরুষোচিত গুনাবলীগুলি যথাযথ ভাবে বিকাশ লাভ করে না। মানুসিক দুর্বলতা প্রকাশ পায়। সর্বদাই হীনমন্যতা ও দুর্বলতার ভাব প্রকাশ পায়।
  • যৌবনের গুনাবলী ঠিক যে সময় যৌবন ভাব প্রকাশ পাওয়া স্বাভাবিক সেটা দেখা যায় না এবং যৌনতার ভাব যথাযথ ভাবে বিকাশ লাভ করে না। দেহের নানা হরমোনের অভাবে এবং স্নায়ুবিক অক্ষমতার কারণ হিসাবে দেখা দেয়।
  • যৌবন আগমন হলেও যৌনইন্দ্রিয়ের কোনো উত্তেজনা থাকে না। পেনিস ঠিক মত শক্ত হয় না। কখনো কখনো অতি সামান্য দু'এক ফোটা বীর্যপাত হয়।
  • সর্বদাই এদের চরিত্রে নারী সুলভ ভাবভঙ্গি প্রকাশ পায়। অদ্ভুদ ধরনের হাবভাব প্রকাশ পায় যা সাধারনত কোন পুরুষের মধ্যে থাকে না।
  • এদের যৌন উত্তেজনা, পেনিসের উত্থান, বীর্যপাত প্রভৃতি কিছুই দেখা যায় না। আচার আচরণে বোকামি প্রকাশ পায়, মানুষের কাছে হস্যম্পদ হয়ে থাকে এবং অনেক সময় মানুষ তাদের নিয়ে উপহাস ও কৌতক করে থাকে।

মানসিক বা দৈহিক ধ্বজভঙ্গ রোগের লক্ষণ

  • অন্যের যৌন ক্ষমতা বেশি এবং নিজের কম এই ভেবে অনেক সময় মানসিক দুর্বলতা দেখা দেয়।
  • যতটা দৈহিক বীর্য ক্ষয় হয় ততটা খাদ্য ঠিক মত পায় না। উপযুক্ত প্রোটিন, ভিটামিন প্রভৃতির অভাব, পেটের রোগ এবং অন্য কোন রোগে ভোগা।
  • হরমোন ক্রিয়ার কম বেশির জন্য, দীর্ঘকাল যাবৎ বছরের পর বছর ধরে অতিরিক্ত হস্তমৈথুন অথবা জন্মগত বা পৈত্রিক সূত্রে অনেকের পেনিস একটু ছোট হলে এর জন্য হিনমন্যতায় ভোগে।
  • অনেক সময় আদৌ রোগ নয়, শুধু মাত্র মানসিক কারণেই এই লক্ষণ দেখা দেয়। তারা প্রকৃতপক্ষে যৌনতায় সুস্থ কিন্তু কৃত্রিমভাবে বীর্যক্ষয় করার কারণে ধ্বজভঙ্গের সন্দেহ করে এবং এই সন্দেহের জন্য নিজেকে ধ্বজভঙ্গ রোগী মনে করে থাকে।
  • অনেকের ক্ষেত্রে যৌন হরমোন বা অন্য কোন গ্রন্থির হরমোন সমান্য কিছু কম নিঃসরণের জন্য যৌন উত্তেজনা কিছুটা কম হতে পারে কিন্তু যথাযথ ট্রিটমেন্ট করলে হরমোনের এই গোলযোগ ঠিক হয়ে যায়। এই ক্ষেত্রে মানসিক দুর্বলতা অনেক সময় প্রকাশ পেয়ে থাকে।

ধ্বজভঙ্গ রোগ নির্ণয় 

স্ত্রী সহবাসের সময় পেনিসের উত্থান হয় না অথবা সামান্য মাত্র উত্থান হয়ে আবার নিস্তেজ হয়ে পড়ে। দ্রুত বীর্যপাত অর্থাৎ বীর্য ধারণের সময় যতটা হওয়া উচিত তার চেয়ে অনেক কম। পেনিসে উত্তেজনা দেখা যায় না আর হলেও অনেক কম। বীর্য স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি তরল হয়। বীর্যপাতের পর অস্বাভাবিক ভাবে দুর্বল হয়ে পড়ে। বীর্য এতটা পাতলা যে দেখতে জলের মত।

ধ্বজভঙ্গ রোগের জটিল উপসর্গ

  • যৌন আনন্দ থেকে বঞ্চিত হয়।
  • দাম্পত্য সুখ শান্তি বিঘ্নিত হয়।
  • সাংসারিক শান্তি নস্ট হয়।
  • জৈব চাহিদা মেটাতে স্ত্রী পর পুরুষের প্রতি আকৃষ্ট হয়।
  • স্ত্রী সর্বদাই মানসিক অশান্তিতে ভোগে এবং স্বামীর প্রতি শ্রদ্ধা ভক্তির অভাব হয়।
  • পুরুষের পুরুষোচিত গুনাবলীর বিকাশ হয় না।
  • কোনো কোনো ক্ষেত্রে শুক্র কীট ঠিকমত না থাকার দরুন সন্তান সৃষ্টি বিঘ্নিত হয়।
  • মনে মনে কামভাব থাকলেও যৌন সুখ না হবার দরুন মানসিক অবসাদ ও হতাশার সৃষ্টি হয়। দীর্ঘদিন যাবৎ এই জাতীয় হতাশায় ভুগলে মানসিক বৈকল্য দেখা দিতে পারে। 

ধ্বজভঙ্গ রোগের প্রাকৃতিক এবং হোমিও চিকিৎসা

ধ্বজভঙ্গ রোগের সর্বশ্রেষ্ঠ প্রাকৃতিক এবং পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াহীন চিকিৎসা হলো হোমিও চিকিৎসা। অভিজ্ঞ একজন হোমিও ডাক্তারের পরামর্শক্রমে প্রপার ট্রিটমেন্ট নিলে যত দিনের যত পুরাতন এবং যত জটিল উপসর্গযুক্ত ধ্বজভঙ্গ রোগই হোক না কেন - স্থায়ী ভাবে ভালো হতে বাধ্য। আর যদি কোন হোমিও ডাক্তারের চিকিৎসায় ফল না দেয় বুঝে নিতে হবে এটা ডাক্তারের সঠিক চিকিৎসা দানে সমস্যা। এটা হোমিওপ্যাথির দোষ নয়। এক্ষেত্রে ডাক্তার পরিবর্তন করুন এবং অভিজ্ঞ ডাক্তারের তথ্যাবধানে চিকিৎসা নিন। 
বিস্তারিত

হোমিও ডাক্তারের ঠিকানা - কখন, কোথায় হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা নিবেন

অনেকেই হোমিওপ্যাথি ডাক্তার অর্থাৎ সেরা হোমিও ডাক্তার বা হোমিও চিকিৎসা কেন্দ্র ঢাকা বা দেশের অন্যান্য স্থানে খুঁজে বেড়ান। তবে আপনাকে একটি বিষয় অবশ্যই মনে রাখতে  হবে আপনার রোগের ধরণ অনুযায়ী সুচিকিৎসা পেতে আপনাকে দেশের যেকোন স্থান থেকে প্রয়োজনবোধে ঢাকায়ও আসতে হবে।

অ্যালোপ্যাথির ক্ষেত্রে ক্রমবর্ধমান রোগ, জটিলতা, ঔষধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া এবং নিরাময়ে ব্যর্থতার ফলে ক্রমশ সমগ্র বিশ্বেই হোমিওপ্যাথির মতো বিকল্প চিকিৎসা ব্যবস্হাগুলো জনপ্রিয়তা লাভ করছে৷ অ্যালোপ্যাথির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কারণে লোকজন আজ খুবই বিরক্ত ৷ লন্ডন হাসপাতালের বিখ্যাত ডাক্তার ডঃ পিটার ফিসার বলেন যে, লন্ডনের বুকে হোমিওপ্যাথির জনপ্রিয়তা দুরন্ত গতিতে বাড়ছে ৷ হোমিওপ্যাথিক হাসপাতালগুলোর জন্য ব্রিটিশ সরকার বছরে এখন চার মিলিয়ন পাউন্ড করে খরচ করে৷ জটিল এবং দুরারোগ্য রোগে ভুগতে থাকা রোগিদের জীবনে সত্যিকারের ত্রাতার ভূমিকা নিতে পারে হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা বিজ্ঞান৷
হোমিও ডাক্তারের ঠিকানা
কারণ মানব দেহের অনেক জটিল এবং কঠিন রোগসমূহ নির্মূলের ক্ষেত্রে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াহীন চিকিৎসা রয়েছে হোমিওপ্যাথিতে যা অ্যালোপ্যাথিতে তেমন নেই, এর প্রধান কারণ হলো অ্যালোপ্যাথির ডাক্তারগণ শরীরবিদ্যায় পারদর্শী হলেও রোগের চিকিৎসার ক্ষেত্রে তাদের হাতে পর্যাপ্ত মেডিসিন এবং কার্যকর ট্রিটমেন্ট নেই। আর তাই তো হোমিওপ্যাথির কল্যাণে বহু মানুষ নতুনভাবে নিজেদের জীবন শুরু করতে পেরেছে ৷ যথেষ্ট ভরসাযোগ্য ফলাফল দেখানো সত্ত্বেও অ্যালোপ্যাথিক চিকিৎসক এবং বিশেষজ্ঞরা হোমিওপ্যাথিকে উপযুক্ত সম্মান দিতে নারাজ ৷ কারণ, অ্যালোপ্যাথি লবি যথেষ্ট অনিশ্চয়তায় ভুগছে৷ তাদের আশঙ্কা, পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় ভুগতে থাকা অ্যালোপ্যাথিক রোগীরা যদি হোমিওপ্যাথির দিকে পা বাড়ায়, তাহলে তাদের ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হবে৷ তবে যে যাই ভাবুক না কেন হোমিওপ্যাথি শুধু মাত্র নির্মূল রোগ নির্মূলকারী এবং পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াহীন একটা চিকিৎসা পদ্ধতি হওয়ায় সমগ্র বিশ্বেই এটি এখন সমান জনপ্রিয়।

তবে হোমিও চিকিৎসা নিতে হলে অবশ্যই আপনাকে একজন রেজিস্টার্ড এবং অভিজ্ঞ হোমিও ডাক্তারের পরামর্শক্রমে চিকিৎসা নিতে হবে। কারণ দেখা যায় কিছু ক্ষেত্রে প্রপার ট্রিটমেন্ট দিতে না জানার কারণে রোগীরা ভাল ফল না পেয়ে হোমিওপ্যাথিকে দোষ দিয়ে থাকে। অথচ এখানে ডাক্তারের চিকিৎসা দানে ভুল থাকতে পারে। এক্ষেত্রে দোষটা হোমিওপ্যাথির নয় বরং ডাক্তারের। তাই  প্রযোজন হলে এক ডাক্তারের চিকিৎসায় ফল না পেলে ডাক্তার পরিবর্তন করুন। 
বিস্তারিত

শুক্রবার, ১৩ এপ্রিল, ২০১৮

IBS রোগ কি ? Irritable Bowel Syndrome বা আই.বি.এস এর স্থায়ী চিকিৎসা জেনে নিন?

IBS রোগের পরামর্শ থাকছে এই আর্টিকেলে। ইরিটেবল বাউয়েল সিন্ড্রোম  (Irritable Bowel Syndrome) হলো অন্ত্রের দীর্ঘ মেয়াদী একটি বৈকল্য যা সাধারণত পেটের ব্যথা হিসেবে নিজেকে জানান দেয়। আই,বি,এস রোগের জন্য এখনো কিছুকে একক ভাবে দায়ী করা যায়নি। সাধারণত ২০-৪০ বছরের মহিলাদের এবং মানসিক ভাবে অস্থির প্রকৃতির লোকদের মধ্যে আই,বি,এস এর প্রবণতা বেশী দেখা যায়।

পেটের নীচের অংশের যেকোনো একপাশে বা মাঝখানে ব্যথা, সেই সাথে ঘন ঘন নরম মলত্যাগ অথবা দীর্ঘ মেয়াদী কোষ্ঠকাঠিন্য আই,বি,এস রোগীদের অভিযোগের প্রথম তালিকায় থাকে। সাধারণত সকালের দিকে অথবা কোনো উত্তেজনাময় মুহুর্তে হঠাৎ করে মলত্যাগের চাপ অনুভব করা আই,বি,এস রোগীর একটি অতিপরিচিত উপসর্গ। এছাড়া পেট ভরা ভরা লাগা, পেটে ভুট ভাট শব্দ করা, অতিরিক্ত বায়ু (Flatus) ত্যাগ করা বা মলত্যাগের পর ও মলাশয়ে কিছু রয়ে গেছে এই অনুভূতি গুলোও আই,বি,এস রোগী প্রতিনিয়ত অনুভব করে থাকেন।
IBS রোগ কি? Irritable Bowel Syndrome বা আই.বি.এস এর স্থায়ী চিকিৎসা জেনে নিন ?
অনেক সময় বৃহদন্ত্রের ক্যন্সার বা টিউমার হলেও রোগীর এই ধরনের অনুভূতি হয়ে থাকে তাই আই,বি,এস এর মতো উপসর্গ নিয়ে আসলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকগণ কোলোনোস্কোপি (Colonoscopy), ব্যারিয়াম এনেমা (Barium enema)এই জাতীয় পরীক্ষাগূলো করে ক্যান্সার এর সম্ভাবনা নাকচ করে থাকেন।

ঠিক কি কারণে IBS হয় তা এখনো জানা যায়নি। তবে এ রোগে আক্রান্ত রোগীদের বৃহদান্ত্রে কোনও ধরনের গাঠনিক ত্রুটি বা অসামঞ্জস্য দেখা যায় না। মনে করা হয় এটি বৃহদন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্রমের ব্যত্যয়। বৃহদন্ত্রের মাংসপেশির সংকোচন ও প্রসারণের ফলে সৃষ্ট যে চলাচল প্রক্রিয়া তাতে বিঘ্ন ঘটে এ রোগে । মানসিক চাপ, আবেগীয় সমস্যা, বিশেষ ধরণের কিছু খাবার ও পরিপাকতন্ত্রের স্থানীয় হরমোন Serotonine- এর প্রভাবে এ সমস্যার সৃষ্টি হয় বলে ধারণা করা হয়। খাবারের পরিমাণও IBS- এর রোগীদের অস্বস্তিতে ফেলে। এক সাথে বেশি পরিমাণ খাবার খাওয়া এ রোগীর যন্ত্রণা বাড়িয়ে দিতে পারে।

রিটেবল বাউয়েল সিন্ড্রোম আই বি এস এর লক্ষণ

  • পেটে ব্যাথা, বিশেষ করে মোচড় দিয়ে বা কামড় দিয়ে ব্যাথা
  • পেট ফাঁপা বা পেটে গ্যাস জমা হওয়া
  • মলত্যাগের পরও অসম্পূর্ণ  মল ত্যাগের অনুভূতি
  • পাতলা পায়খানা
  • কোষ্ঠকাঠিন্য
  • পেটে অস্বস্তি ইত্যাদি 

আই.বি.এস স্থায়ীভাবে নির্মূলকারী চিকিৎসা

এই রোগের নির্দিষ্ট কারণ আজও নির্ণয় করতে না পারার কারণে এলোপ্যাথিতে এর নির্দিষ্ট কোন চিকিৎসা নেই কারণ এর ঔষধ এলোপ্যাথিক চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা আজও আবিষ্কার করতে পারেননি, তারা এটিকে মানুষিক রোগ বলেই চালিয়ে দিয়ে পিঠ বাঁচানোর চেষ্টা করেন। আর সেই সাথে এর জন্য যে ট্রিটমেন্ট দিয়ে থাকেন সেটিও নানা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে থাকে অর্থাৎ আপনাকে এখানেও শান্তিতে থাকতে দিবে না। তাহলে কি এই রোগ থেকে মুক্তি নেই ? অবশ্যই এর থেকে আপনার মুক্তি রয়েছে। আপনাকে জানতে হবে পৃথিবীতে রয়েছে প্রায়ই দেড় শতাধিক চিকিৎসা পদ্ধতি। এলোপ্যাথিই একমাত্র চিকিৎসা পদ্ধতি নয়। কোন না কোন চিকিৎসা পদ্ধতিতে সেই রোগেরও স্থায়ী আরোগ্য রয়েছে যা এলোপ্যাথি করতে পারছে না।

সমগ্র বিশ্বে বর্তমানে কোন প্রকার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সৃষ্টি না করে Irritable Bowel Syndrome (IBS) ইরিটেবল বাউয়েল সিন্ড্রোম আই.বি.এস নির্মূলের একমাত্র কার্যকর চিকিৎসা হলো হোমিওপ্যাথি। কারণ হোমিওপ্যাথির প্রতিটি ঔষধেই রয়েছে রোগীর - শারীরিক, মানুষিক, চারিত্রিক, স্বভাবগত এবং যে রোগে আক্রান্ত হয়েছে সেই রোগের সুনির্দিষ্ট লক্ষণ। আর তাই তো হোমিওপ্যাথি এত কার্যকর এবং স্থায়ী একটি চিকিৎসা পদ্ধতি। আই.বি.এস এর ক্ষেত্রে একেক জনের ক্ষেত্রে একেক প্রকার লক্ষণ অর্থাৎ লক্ষণের ভিন্নতা থাকলেও অভিজ্ঞ হোমিওপ্যাথিক ডাক্তারদের এই রোগ স্থায়ী ভাবে সারাতে মোটেও বেগ পেতে হয় না। তাই এই রোগে আক্রান্ত হলে অযথাই এলোপ্যাথির পেছনে ছুটাছুটি করে আপনার টাকা পয়সা এবং সময় নষ্ট না করে রেজিস্টার্ড এবং অভিজ্ঞ একজন হোমিও চিকিৎসকের পরামর্শক্রমে চিকিৎসা নিন।

যদি কোন হোমিও ডাক্তারের চিকিৎসায় ফল না দেয় তাহলে ডাক্তার পরিবর্তন করুন। কারণ আপনার রোগ ভালো হচ্ছে না এর জন্য ঐ ডাক্তারের ঔষধ এবং ঔষধের পাওয়ার সিলেকশনে ভুল থাকতে পারে। এটা হোমিওপ্যাথির দোষ নয়। আর সব সময় অভিজ্ঞ এবং রেজিস্টার্ড হোমিও চিকিৎসকের পরামর্শক্রমে চিকিৎসা নেয়াই হলো অতি উত্তম।
বিস্তারিত

বৃহস্পতিবার, ১২ এপ্রিল, ২০১৮

Acid Phos Q এসিড ফস মাদার - হোমিওপ্যাথিক ঔষধ (Phosphoricum acidum)

Acid Phos Q, 30, 200 এসিড ফস মাদার, ৩০ বা ২০০ শক্তি হোমিওপ্যাথিক ঔষধ যা লক্ষণ অনুসারে ডাক্তারগণ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিভিন্ন শক্তি ব্যবহার করে থাকেন। এর পূর্ণ হোমিওপ্যাথিক নাম Phosphoricum acidum. এই ঔষধটি ক্ষেত্র বিশেষে এবং লক্ষণ অনুসারে শর্করাযুক্ত বহুমূত্র অর্থাৎ ডায়াবেটিস, উদরাময়, কাশি, স্নায়ু-দৌর্বল্য, টাইফয়েড জ্বর, মাথা ব্যথা, মাথা ঘোরা, ইন্দ্রিয় এবং স্মৃতিশক্তির লোপ, নাভার্স- ডিবিলিটি এবং মহিলাদের শ্বেত প্রদর, প্রমেহ স্রাব বশত দুর্বলতা ইত্যাদিসহ আরো কিছু ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা হয়ে থাকে।

তবে লক্ষণ দেখেই একটি ঔষধ খাওয়া শুরু করে দিবেন না। আপনার সমস্যা থাকলে অবশ্যই অভিজ্ঞ একজন হোমিও চিকিৎসকের পরামর্শক্রমে প্রপার ট্রিটমেন্ট নিবেন তা না হলে একসময় আপনার নিজেকেই পস্তাতে হবে। কারণ শুধুমাত্র ঔষধ সিলেকশনের ভুলের কারণে অনেক হোমিও ডাক্তারগন পর্যন্ত ভালো ট্রিটমেন্ট দিতে ব্যর্থ হন। তখন রোগ ভালো না হওয়ার কারণে লোকজন ডাক্তারকে দোষ না দিয়ে সরাসরি হোমিওপ্যাথিকে দোষ দেয়।
Acid Phos Q এসিড ফস মাদার - হোমিওপ্যাথিক ঔষধ
আপনাকে বুঝতে হবে লোকজন যখন ডাক্তারের কাছে যায় তখন একক কোন সমস্যা বা উপসর্গ নিয়ে যায় না। দেখা যায় একই সাথে নানান শারীরিক বা মানুষিক সমস্যা নিয়ে লোকজন হোমিও ডাক্তারের কাছে আসেন। তখন সবগুলি বিষয় পর্যালোচনা করে একজন অভিজ্ঞ হোমিও চিকিৎসক প্রতিটি রোগীকে উপযুক্ত চিকিৎসা দিয়ে ক্রমান্বয়ে তাকে সুস্থতার দিকে নিয়ে যেতে পারেন। কিন্তু আজকাল দেখা যাচ্ছে কিছু মানুষ ইন্টারনেট থেকে ভুল তথ্য অনুসরণ করে নিজ নির্বাচনে ঔষধ খাওয়া শুরু করে দেন। একসময় ঔষধের ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া কোন কিছুই বুঝতে না পেয়ে তারা চিকিৎসা শাস্ত্রকে দোষারোপ করা শুরু করেন। অথচ তারা এটি চিন্তা করেন না, যে কাজটি তিনি নিজে করেছেন সেটি একজন অভিজ্ঞ ডাক্তারের করতেও অনেক চিন্তা ভাবনা করে সিদ্ধান্ত নিতে হয়। তাই নিজ নির্বাচনে যেকোন প্রকার ঔষধ খাওয়া পরিহার করুন।
বিস্তারিত

মঙ্গলবার, ১০ এপ্রিল, ২০১৮

এনাল ফিসার, পাইলস বা অর্শ্ব, ফিস্টুলা বা ভগন্দর নির্মূলের কার্যকর চিকিৎসা

পায়ুপথের কষ্টদায়ক রোগগুলি হলো - এনাল ফিসার, পাইলস, ফিস্টুলা। মলদ্বারের এই রোগ সমূহ বিভিন্ন কারনে হয়ে থাকে বিশেষ করে কোষ্ঠ্যকাঠিন্য প্রধান একটি  কারন। এনাল ফিসার, পাইলস, ফিস্টুলা সহ মলদ্বারের সকল রোগই এ্যালোপ্যাথিক চিকিৎসা ব্যাবস্থায় র্সাজারি দ্বারা এবং হোমিওপ্যাথি চিকিৎসায় সার্জারি ছাড়াই সর্ম্পূন র্নিমূল করা সম্ভব হয়। আসুন এ সম্পর্ক বিস্তারিত আলোচনা করা যাক।

এনাল ফিসার

যে রোগে সাধারণত শক্ত মল হলে বা ঘন ঘন মলত্যাগের কারণে মলদ্বার ফেটে ঘা হয়ে যায়, ফলে মলদ্বারে ব্যথা বা জ্বালাপোড়া হয় তার নাম এনাল ফিসার। এই ঘা সহজে শুকাতে চায় না। কিছু কিছু রোগীর এই ঘা শুকিয়ে গেলেও কিছু দিন পর আবার মল শক্ত হলে আবারও একই সমস্যা দেখা দেয়। এ রোগের উপসর্গেরও বেশ তারতম্য হয়। কোন কোন রোগীর মলত্যাগের পর সামান্য জ্বালা পোড়া হয় এবং তা ৫ থেকে ১৫ মি: পর্যন্ত চলে।
এনাল ফিসার, পাইলস বা অর্শ্ব, ফিস্টুলা বা ভগন্দর নির্মূলের কার্যকর চিকিৎসা
মাঝে মাঝে ব্যথার তীব্রতা বাড়ে, যা কয়েক ঘন্টা এমনকি সারাদিন চলতে থাকে। কারো কারো মাথা ধরে যায়। দীর্ঘস্থায়ী এনাল ফিসারে মাঝে মাঝে মোটেই ব্যথা থাকে না। মলদ্বারের রোগের মধ্যে এটিই সবচেয়ে বেশি হয়। তরুণ ও যুবকদের রোগটি বেশী হয়। পুরুষ অথবা নারী উভয়ের এ রোগটি সমান ভাবে হয়ে থাকে।

পাইলস বা অর্শ্ব

পাইলস (Piles or Hemorrhoids) বা অর্শ বা গেজ হচ্ছে মলদ্বারের এক ধরনের রোগ, যেখানে রক্তনালীগুলো প্রশস্ত হয়ে গিয়ে ভাসকুলার কুশন তৈরি করে।

অর্শ্ব বা পাইলস (Piles or Hemorrhoids) হলে সাধারণত যেসব লক্ষণ ও উপসর্গগুলো দেখা দেয় তা হলোঃ
  • মলত্যাগের (Evacuation) সময় ব্যথাহীন রক্তপাত (Painless bleeding)
  • পায়ুপথ চুলকানো (Itching) অথবা অস্বস্তিকর জ্বালাপোড়া (Burning) ব্যথা
  • পায়ুপথ থেকে বাইরের দিকে ফোলা (Swelling) ও ব্যথা লাগা
  • পায়ুপথের মুখে ব্যথা ও চাকা অনুভব করা 

ফিস্টুলা বা ভগন্দর

ফিস্টুলা একটি নালী ঘাঁ যা মলদ্বারের ভেতরে শুরু হয়ে মাংসের ভেতর দিয়ে মলদ্বারের পাশে একটি মুখ হয়ে বেরিয়ে আসে এবং মাঝে মাঝে এখান থেকে পুঁজ পড়ে ও ব্যথা হয়। পেরিএনাল এবসেস বা ফোঁড়া যদি নিজে নিজে ফেটে যায় কিংবা অসম্পূর্ণভাবে অপারেশনের মাধ্যমে পুঁজ বের করা হয় তাহলে এই রোগের উত্পত্তি হয়ে থাকে। এ রোগের দুটি মুখ থাকে। একটি থাকে মলদ্বারের ভেতরে এবং অন্যটি বাইরের চামড়ায়। মাঝে মাঝে মলদ্বারের বাইরে ও ভেতরে একাধিক মুখও থাকতে পারে। যাকে আমরা বহুমুখী ফিস্টুলা বলে থাকি। বেশ কিছুদিন স্কিনের মুখটি বন্ধ থাকে এবং ভেতরে পুঁজ ও ময়লা জমতে থাকে। ফলে মুখ ও আশপাশ ফুলে যায় এবং ব্যথা হয়। এক সময় মুখ ফেটে পুঁজ ও ময়লা জাতীয় আঠালো পদার্থ বের হয়ে আসে এবং রোগী সুস্থ অনুভব করে। রোগটির পুনরাবৃত্তি ঘটতেও পারে এবং জটিলতর হতে পারে।
রোগের কারণ এবং কি করে ঘটে:-
  • সাধারণত কোষ্ঠকাঠিন্য (Constipation) অথবা মলত্যাগের সময় কুথুনি ( Tenesmus ) দেয়া। শক্ত মল (Hard Stool) বের হওয়ার সময় মলদ্বার ফেটে যায় বলে মনে করা হয়।
  • ঘন ঘন মলত্যাগ (Frequent Evacuation ) বা ডায়রিয়া (Diarrhea) হলে ফিসার হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। যদিও আঙ্গুল দিয়ে পরীক্ষা করলে মলদ্বার অতিরিক্ত সংকুচিত (Shrinkage) বলে মনে হয়।
  • গর্ভাবস্থার শেষের (Last period of pregnancy ) দিকে অনেকে এনাল ফিসারের সম্মুখীন হতে পারেন। বাচ্চার বৃদ্ধির সাথে সাথে মলদ্বারে চাপের কারণে এই ফিসার হয়।
  • পায়ুপথে যৌনমিলনে (Anal Intercourse) অভস্ততা ফিসার এর সূত্রপাত ঘটাতে পারে।
  • মলদ্বারের ভিতর সাপোজিটরী (Suppository) জাতীয় ওষুধ দেয়ার সময় অনেকের মলদ্বারে ঘা হয়, তা থেকেও অনেক রোগীর বিশেষ করে মহিলাদের এ জাতীয় রোগ হতে পারে।
উপসর্গ ও লক্ষণসমূহ:- মলদ্বারে ফিসারের প্রধান লক্ষণ হলো ব্যথা (Pain), জ্বালাপোড়া(Burning) ও রক্তক্ষরণ (Bleeding)। এ ধরণের ব্যথা সাধারণত মল ত্যাগের অব্যবহিত পরে হয় এবং কয়েক মিনিট থেকে বহু ঘন্টা এমনকি সারাদিনও চলতে পারে। ‘প্রকটালজিয়া ফিউগাঙ্’ নামক এক ধরনের রোগেও মলদ্বারে ব্যথা হয় কিন্তু তা মলত্যাগের পরেই শুধু হয় না, যে কোন সময় হতে পারে।

প্রতিরোধ:- কোষ্ঠকাঠিন্য সেদিকে অবশ্যই খেয়াল রাখা উচিত এবং বেশী শক্তি প্রয়োগে বা কুথঁনি দিয়ে মলত্যাগ করা উচিত নয়। বারে বারে মলত্যাগের অভ্যাস ত্যাগ করতে হবে এবং ডায়রিয়া হলে দ্রুত চিকিৎসা করতে হবে।

যা যা খাবেন?
  • যারা আঁশযুক্ত (Fiber) খাবার খান তাদের এ রোগ কম হয়। আঁশযুক্ত খাবারের মধ্যে রয়েছে শাক-সবজি, আলুর ছোলা, কাঁচা ফলমূল, ইসুপগুলের ভূষি ইত্যাদি। এতে থাকা আঁশ মলে পানি ধরে রেখে মলকে নরম (Soft stool) করে। ফলে কোষ্টকাঠিন্য এর সম্ভাবনা থাকেনা।
  • ডাল জাতীয় খাবার খান। এক কাপ ডালে ১৫-১৬ গ্রাম আঁশ (Fiber) থাকে। দিনে অন্তত দুই কাপ ডাল খান।
  • খোসাহীন শস্যের চাইতে খোসা যুক্ত শস্য খান। সাদা চাল বা আটা এর বদলে লাল চাল বা ঢেঁকি ছাটা চাল বা আটা খান। খোসা, প্রচুর পরিমানে আশ ও ভিটামিন সরবরাহ করে।
  •  নিয়মিত দই খান। এতে থাকা উপকারী ব্যক্টেরিয়া কোষ্টকাঠিন্য রোধে সহায়তা করে।
  • দিনে ৮-১০ গ্লাস পানি খান।
যা যা খাবেন না?
  • প্যাস্তা (Pasta), ক্র্যাকার, ভাত, বিস্কিট, রুটি ইত্যাদিতে আঁশ অনেক কম। ধরুন আপনি এক বেলার খাবারে নিয়মিত পাস্তা খান বা এক প্যাকেট বিস্কিট খান বা অল্প পরিমান সব্জী দিয়ে বা সব্জী ছাড়া প্রচুর পরিমাণে রুটি বা ভাত খান- এই ধরণের খাদ্যাভাসে অভ্যস্ত থাকলে আপনার শরীরে আঁশ গ্রহণ কম হচ্ছে, যাতে দেখা দিতে পারে কোষ্টকাঠিন্য। মোটকথা কোষ্টকাঠিন্য নিরোধে কার্বোহাইড্রেটের সঙ্গে আঁশ এর অনুপাত ঠিক থাকতে হবে।
  • ফ্যাটি ও উচ্চ সুগার (Fatty and High sugar) যুক্ত খাবার নিয়মিত গ্রহণের অভ্যাস ও কোষ্টকাঠিন্য ঘটাতে পারে। যেমন, গরুর মাংস, চকোলেট, চীজ, আইস্ক্রীম, মাখন, কোমল পানীয়, ফ্রাইড খাবার ইত্যাদি।
ব্যায়াম:- যাদের কোষ্টকাঠিন্য আছে তারা ব্যায়ামের মাধ্যমে কোষ্টকাঠিন্য কমাতে পারেন। ফলে পাইলস হওয়ার সম্ভাবনাও কমে। মাটিতে সোজা শুয়ে পরুন (Lye straight ), পা মাটিতে মেশানো থাকবে (Leg on ground), পায়ের পাতা ছাদমুখী থাকবে। এবার পেটের পেষী ভিতরে দিকে টেনে ধরে আস্তে আস্তে শ্বাস নিন (Slowly inspiration) ও ডান পা (Right leg) টা আস্তে আস্তে দূরে নিন। যতদূর পারেন করুন, এরপর শ্বাস ছাড়তে ছাড়তে (Expiration) পা আগের জায়গায় আনুন। এরপর বাম পা ব্যবহার করে একই ব্যায়াম করুন।

মলদ্বারের যত্ন:-মলদ্বার ও প্বার্শবর্তী (Rectal region) অঞ্চল যথাসম্ভব পরিষ্কার রাখুন। সুতী ও ঢিলেঢালা অন্তর্বাস (Under ware) পরিধান করুন। অন্তর্বাসের ভিতরে নরম কোন প্যাড (Soft pad) ব্যবহার আপনাকে স্বস্তি দেবে। মাঝে মাঝেই সিজ বাথ (Sitz Bath) নিতে পারেন, অর্থাৎ আধ গামলা লবণ মিশ্রিত হাল্কা গরম পানিতে নিতম্ব (Waist) ১০ মিনিট ডুবিয়ে রাখতে হবে।

চিকিৎসা

সার্জিক্যাল চিকিৎসা:- এলোপ্যাথিতে সার্জারী ব্যতিত এ রোগের জন্য মেডিসিনাল চিকিৎসা কমই আছে। সার্জারী করলেই সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে এমন কিছু নেই, বার বার আক্রান্ত হলে সার্জারী করবেন কোথায় ( ভালো থাকা যায়?)।

হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা:- এনাল ফিসার, ফিস্টুলা, পাইলসসহ মলদ্বারের সকল রোগই হোমিওপ্যাথি চিকিৎসায় সর্ম্পূন র্নিমূল করা সম্ভব হয়। সার্জারি চিকিৎসায় এক বা দুই বছর পর পুনরায় এ রোগ দেখা দেয় কিন্তু হোমিও চিকিৎসায় সম্পূর্ন নির্মূল হয়ে যায়। হোমিওপ্যাথি একটি লক্ষণ ভিত্তিক চিকিৎসা পদ্ধতি। এতে রোগীর ব্যক্তিস্বাতন্ত্র ভিত্তিতে লক্ষণ সমষ্টির উপর ঔষধ নির্বাচন করা হয়। এটি নিরাপদ, সহজ লভ্য এবং কম ব্যয় সাপেক্ষ্য। সঠিক চিকিৎসার জন্য আপনি অবশ্যই একজন রেজিস্টার্ড হোমিও চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রপার ট্রিটমেন্ট নিবেন।
বিস্তারিত