হোমিওপ্যাথি লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
হোমিওপ্যাথি লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, ২০২৬

পুরুষ বন্ধ্যাত্ব, এর জন্য দায়ী ভেরিকোসিল। কারণ লক্ষণ ও সমাধান জানুন

আজকাল পুরুষদের মধ্যে বন্ধ্যাত্ব বা সন্তান উৎপাদনে অক্ষমতা একটি উল্লেখযোগ্য মারাত্মক স্বাস্থ্য সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এক গবেষনায় দেখা গেছে যে, পুরুষ বন্ধ্যাত্ব ২০% -৩০% ক্ষেত্রে ভেরিকোসিল মূল কারণ হিসেবে কাজ করে। সেকেন্ডারি বন্ধ্যাত্বের ক্ষেত্রে এই হার বেড়ে দাঁড়ায় ৬০ থেকে ৮০% তাহলে আমাদের জানা উচিত ভেরিকোসিল কি ? এর কারণ , উপসর্গগুলো কি ? এবং ভেরিকোসিল কিভাবে বন্ধ্যাত্ব সৃষ্টি করে। চলুন এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি ভালো ভাবে বুঝি।

ভেরিকোসিল কি ? ভেরিকোসিল হলো অন্ডকোষের রক্তের শিড়া অস্বাভাবিক ফোলে যাওয়া বা প্রসারিত হওয়া। সাধারণত অন্ডকোষের রক্ত চলাচল নিয়ন্ত্রণ কারী শিড়ার ভাল্বগুলো সঠিক ভাবে কাজ না করলে, শিড়াগুলো ফোলে ওঠে এবং মোটা হয়ে যায়। এটি এক ধরণের ভেরিকোসিল যা অন্ডকোষের কার্যক্ষমতাকে নষ্ট করে। দীর্ঘদিন এই সমস্যাটি থাকলে এটি শুক্রানোর উৎপাদনে ক্ষমতা এবং গুণগত মান কমে যেতে পারে।?

  • ভেরিকোসিল হলো অণ্ডকোষের শিরা অস্বাভাবিকভাবে ফুলে যাওয়া
  • ভারী অনুভূতি
  • বন্ধ্যাত্ব
  • অণ্ডকোষে ব্যথা

ভেরিকোসিল পুরুষ বন্ধ্যাত্বের জন্য কিভাবে দায়ী?

  • ভেরিকোসিলের কারণে অন্ডকোষ গরম হয়ে যায়, যার ফলে শুক্রাণু স্বাভাবিক উৎপাদন এবং নড়াচড়া, গতি কমে যায়।
  • ভেরিকোসিলের কারণে অন্ডকোষের শিড়াতে রক্ত জমে থাকার কারণে রক্তে টক্সিন পদার্থ বৃদ্ধি ঘটে। যার কারণে শুক্রাণুর ডিএনএ নষ্ট হয়ে যেতে পারে
  • অন্ডকোষের শিড়াতে রক্ত চলাচল কম হওয়ায় পুষ্টি এবং অক্সিজেন সরবরাহ কমে যায়। যার ফলে শুক্রাণুর গুণগত মান নষ্ট হয়ে যায়।

এক গবেষণায় দেখা গেছে যে, প্রাথমিক বন্ধ্যাত্ব ২০%-৩০% এবং সেকেন্ডারি বন্ধ্যাত্ব ৬০%-৮০% ক্ষেত্রে ভেরিকোসিল দায়ী এবং বড় ভূমিকা পালন করে।

    ভেরিকোসিল হলে কি কি উপসর্গ দেখা দেয় ?

  • অন্ডকোষ এবং শিড়াতে ব্যথা, জ্বালা, অস্বস্তি, কারো বাম পাশে, কারোর ডান পাশে আবার কারোর উভয় পাশে।
  • অন্ডকোষে টানটান এবং ভারী অনুভূতি।
  • আক্রান্ত অন্ডকোষ ঝুলে থাকে।
  • অন্ডকোষের শিড়াগুলো নাড়ীভূড়ির মতো গাট গাট হয়ে পেঁচিয়ে দলা বেধে থাকে। হাত দিয়ে ধরলে অন্ডকোষের শিড়াগুলো কেচুর মতো অনুভব হয়।
  • গরমে অথবা দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকলে, ভারী কাজ করলে, গাড়ীর ঝাকিতে বৃদ্ধি পায়। ঠান্ডায় বা বরফের সেক দিলে, বসে বা শুয়ে থাকলে আরাম বোধ।

যেসকল রোগীর ব্যাথা হয় না কিন্তু ভেরিকোসিল আক্রান্ত, তাদের ক্ষেত্রেও ভেরিকোসিল শরীরে সমস্যা সৃষ্টি করে, যা রোগী বুঝতে পারে না। তাই এই রোগটি নির্ণয় এবং সঠিক চিকিৎসা খুবই জরুরী।

ভেরিকোসিল নির্ণয়:

  • অন্ডকোষে ভেরিকোসিল নির্ণয়ের জন্য স্কুটাম আল্ট্রা সাউন্ড পরীক্ষাই যথেষ্ট।

সঠিক চিকিৎসা এবং সমাধান:

আজকাল পুরুষ বন্ধ্যাত্ব বা সন্তান না হওয়া একটি শারীরিক সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে পুরুষদের বন্ধ্যাত্বের প্রায় ২০%-৩০% ক্ষেত্রে দায়ী এবং সেকেন্ডারি বন্ধ্যাত্ব ৬০%-৮০% ভেরিকোসিল মূল কারণ হিসেবে কাজ করে। ভেরিকোসিলের কারণে অন্ডকোষ গরম হয়ে থাকে, যার ফলে শুক্রণুর মান, সংখ্যা ও গতি কমে যায় এবং আস্তে আস্তে সন্তান ধারণের ক্ষমতা কমে যায়।

এই অবস্থায় রোগী হতাশ হয়ে পড়েন। কিন্তু হোমিওপ্যাথি সঠিক চিকিৎসা এর সমাধান রয়েছে। পুরুষদের অন্ডকোষের ভেরিকোসিল ১৫-৪৫ বৎসর বয়সের বেশি হয়ে থাকে। তাই যথা সময়ে হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা গ্রহণ করলে এই সমস্যা ভালো হয়ে যায় এবং বন্ধ্যাত্ব এড়ানো সম্ভব। জেনে রাখা ভালো এমন অনেক রোগ আছে যে গুলোর কোন স্থায়ী চিকিৎসা এ্যালোপ্যাথিতে নেই। তার মধ্যে একটি রোগ হলো ভেরিকোসিল।

ইউরোলজিস্ট ডাক্তাররা আপনাকে ফলো আপে রাখবে, টাইট আন্ডারওয়্যার পড়তে বলবে এবং ব্যাথা হলে প্যারাসিটামল ঔষধ খেতে বলবে। আর বলবে বিয়ে করে বাচ্চা নেওয়ার জন্য। যখন আপনার বাচ্চা হবে ও ভেরিকোসিল গ্রেড-৩ বা গ্রেড-৪ হবে এবং রোগটি জটিল ও কঠিন আকার ধারণ করবে তখন ইউরোলজিস্ট ডাক্তার অপারেশন করতে বলবে। অথচ অপারেশন করলে স্থায়ীভাবে ভালো ত হয় ই না বরং ৮০%-৯০% রোগীর পুনরায় ভেরিকোসিল ফিরে আসে এবং বন্ধ্যাত্বের মত জটিলতা দেখা দেয়।

অতএব আপনি যদি ভেরিকোসিল রোগে আক্রান্ত হন তাহলে হোমিওপ্যাথি চিকিৎসাই আপনার জন্য নিরাপদ এবং স্থায়ী সমাধান। হোমিওপ্যাথি চিকিৎসায় অন্ডকোষের শিড়ায় রক্ত চলাচল স্বাভাবিক হবে এবং অন্ডকোষ গরম হবে না, ব্যাথা, জ্বালা পোড়া, অস্বস্তি কমে যাবে। শুক্রাণুর উৎপাদন, গতি সংখ্যা মান বৃদ্ধি পাবে এবং বন্ধ্যাত্ব দূর হবে।

সত্য কথা হলো ভেরিকোসিলের জন্য হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা নিরাপদ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া মুক্ত এবং চিরস্থায়ী সমাধান তাই ভেরিকোসিলে আক্রান্ত হলে বা সন্দেহ হলে দ্রুত একজন এক্সপার্ট, অভিজ্ঞ রেজিস্টার্ড হোমিও ডাক্তার দেখান এবং ডাক্তারের পরামর্শ অনুসারে চিকিৎসা গ্রহণ করুন। কয়েকমাস মাস ঔষধ সেবন করুন এবং সুস্থতা লাভ করুন।

বিস্তারিত

মঙ্গলবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৩

পুরুষ বন্ধ্যাত্ব কি? যে কারনে অনেক পুরুষরা বাবা হতে পারতেছেন না । Men's Infertility causes in bangla.

বন্ধ্যাত্ব কি?

কোনো ধরনের জন্ম নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ছাড়া স্বামী এবং স্ত্রী যদি এক থেকে দেড় বছর সন্তান লাভের আশায় এক সঙ্গে কম বাস করার পর ও সন্তান ধারনে ব্যার্থ হলে তাকে বন্ধ্যাত্ব বলা হয়।

বন্ধ্যাত্ব দুই ধরনের

    প্রাইমারি - যাদের কখনো সন্তান হয়নি।
    সেকেন্ডারী - যাদের আগে গর্ভধারন হয়েছে কিন্ত আর গর্ভধারন হচ্ছে না।

বীর্য বিশ্লেষণ(Semen Analysis)

  • Appearance to seme - বীর্ঘ দেখতে কেমন - whitish to grey সাদাটে থেকে ধূসর রং এর হয়।
  • Semen volume বীর্যের পরিমানঃ বীর্যের পরিমান ২ মিলি বা তার বেশি হবে। যদি এই পরিমানের চেয়ে কম বা বেশি হয় তাহলে বীর্যের মধ্যে শুক্রানুর সংখ্যা বা পরিমান কম বেশি হতে পারে।
  • Semen shape (আকার) - বীর্যের মধ্যে থাকা একেকটি শুক্রানুর মধ্যে ৩টি অংশ থাকে -১। মাথা ২।শরীর ৩। লেজ ৩০% শুক্রানোর শারীরিক গঠনে এবনরমালিটি থাকলে আপনার স্ত্রীর ডিম্বানুর সাথে আপনার শুক্রানোর ফার্টিলাইজেশন বা নিষিক্ত হবেনা এবং সন্তান হবে না
  • sperm count - 20-200 মিলিয়ন শুক্রানু প্রতি মিলি লিটার বীর্যের মধ্যে থাকতে হবে।
  • Motile, Motility, movement - শুক্রানোর নড়া চড়া বা গতি 50% শুক্রানোর মধ্যে স্বাভাবিক নড়া চড়া থাকতে হবে।
  • pH - ল্যাব টেস্ট অনুযায়ী মানুষের বীর্য PH এর মান 7.2 - 7.8 পর্যন্ত স্বাভাবিক যদি 8 এর বেশি থাকে তা হলে তা ইনফেকশন নির্দেশ করে।
  • Viability (কার্যকারিতা): 75% অথবা তার বেশি কার্যকারী হতে হবে।

  • অস্বাভাবিক বীর্য বিশ্লেষণ রিপোর্ট

    • Aspermia: (অ্যাসপার্মিয়া) বীর্যই তৈরী হয়না।
    • Azoospermia: (অ্যাজুস্পার্মিয়া) বীর্য আছে কিন্তু এর মধ্যে শুক্রানু নাই।
    • Oligospermia: (অলিগোস্পার্মিয়া) শুক্রানুর সংখ্যা প্রতি মিলিতে 70 মিনিয়ন এর কম।
    • Asthenozoospermia: (অ্যাস্থেনোজুস্পার্মিয়া) 50% এর কম শুক্রানোর মধ্যে স্বাভাবিক মুভমেন্ট/নড়া চড়া আছে
    • Teratozoospermia: (টেরাটোজোস্পার্মিয়া) 70% এর বেশি শুক্রানুর শারীরিক গঠন অস্বাভাবিক।
    • Necrozoospermia: (নেক্রোজুস্পার্মিয়া) শুক্রানো আছে তবে মৃত।
    • Oligoasthenozoospermia: (ওলিগোঅ্যাস্থেনুজুস্পামিয়া) স্বাভাবিক সংখ্যক শুক্রানুর স্বাভাবিক নড়া চড়া নাই এবং একই সাথে শুক্রানুর সংখ্যা ও কম।
    • Varicocele (ভ্যারিকোসেল) আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে প্রায় 5-6% রোগীর পুরুষ বন্ধ্যাত্ব দেখা দেয়।
    • Epididymitis/epididymal cyst: (এপিডিডাইমাইটিস/এপিডিডাইমাল সিস্ট) শুক্রবাহী নালীতে ইনফেকশন বা সিস্ট হলেও পুরুষ বন্ধ্যাত্ব দেখা দেয়।

    বিস্তারিত

    শনিবার, ১৪ এপ্রিল, ২০১৮

    হোমিও ডাক্তারের ঠিকানা - কখন, কোথায় হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা নিবেন

    অনেকেই হোমিওপ্যাথি ডাক্তার অর্থাৎ সেরা হোমিও ডাক্তার বা হোমিও চিকিৎসা কেন্দ্র ঢাকা বা দেশের অন্যান্য স্থানে খুঁজে বেড়ান। তবে আপনাকে একটি বিষয় অবশ্যই মনে রাখতে  হবে আপনার রোগের ধরণ অনুযায়ী সুচিকিৎসা পেতে আপনাকে দেশের যেকোন স্থান থেকে প্রয়োজনবোধে ঢাকায়ও আসতে হবে।

    অ্যালোপ্যাথির ক্ষেত্রে ক্রমবর্ধমান রোগ, জটিলতা, ঔষধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া এবং নিরাময়ে ব্যর্থতার ফলে ক্রমশ সমগ্র বিশ্বেই হোমিওপ্যাথির মতো বিকল্প চিকিৎসা ব্যবস্হাগুলো জনপ্রিয়তা লাভ করছে৷ অ্যালোপ্যাথির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কারণে লোকজন আজ খুবই বিরক্ত ৷ লন্ডন হাসপাতালের বিখ্যাত ডাক্তার ডঃ পিটার ফিসার বলেন যে, লন্ডনের বুকে হোমিওপ্যাথির জনপ্রিয়তা দুরন্ত গতিতে বাড়ছে ৷ হোমিওপ্যাথিক হাসপাতালগুলোর জন্য ব্রিটিশ সরকার বছরে এখন চার মিলিয়ন পাউন্ড করে খরচ করে৷ জটিল এবং দুরারোগ্য রোগে ভুগতে থাকা রোগিদের জীবনে সত্যিকারের ত্রাতার ভূমিকা নিতে পারে হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা বিজ্ঞান৷
    কারণ মানব দেহের অনেক জটিল এবং কঠিন রোগসমূহ নির্মূলের ক্ষেত্রে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াহীন চিকিৎসা রয়েছে হোমিওপ্যাথিতে যা অ্যালোপ্যাথিতে তেমন নেই, এর প্রধান কারণ হলো অ্যালোপ্যাথির ডাক্তারগণ শরীরবিদ্যায় পারদর্শী হলেও রোগের চিকিৎসার ক্ষেত্রে তাদের হাতে পর্যাপ্ত মেডিসিন এবং কার্যকর ট্রিটমেন্ট নেই। আর তাই তো হোমিওপ্যাথির কল্যাণে বহু মানুষ নতুনভাবে নিজেদের জীবন শুরু করতে পেরেছে ৷ যথেষ্ট ভরসাযোগ্য ফলাফল দেখানো সত্ত্বেও অ্যালোপ্যাথিক চিকিৎসক এবং বিশেষজ্ঞরা হোমিওপ্যাথিকে উপযুক্ত সম্মান দিতে নারাজ ৷ কারণ, অ্যালোপ্যাথি লবি যথেষ্ট অনিশ্চয়তায় ভুগছে৷ তাদের আশঙ্কা, পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় ভুগতে থাকা অ্যালোপ্যাথিক রোগীরা যদি হোমিওপ্যাথির দিকে পা বাড়ায়, তাহলে তাদের ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হবে৷ তবে যে যাই ভাবুক না কেন হোমিওপ্যাথি শুধু মাত্র নির্মূল রোগ নির্মূলকারী এবং পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াহীন একটা চিকিৎসা পদ্ধতি হওয়ায় সমগ্র বিশ্বেই এটি এখন সমান জনপ্রিয়।

    তবে হোমিও চিকিৎসা নিতে হলে অবশ্যই আপনাকে একজন রেজিস্টার্ড এবং অভিজ্ঞ হোমিও ডাক্তারের পরামর্শক্রমে চিকিৎসা নিতে হবে। কারণ দেখা যায় কিছু ক্ষেত্রে প্রপার ট্রিটমেন্ট দিতে না জানার কারণে রোগীরা ভাল ফল না পেয়ে হোমিওপ্যাথিকে দোষ দিয়ে থাকে। অথচ এখানে ডাক্তারের চিকিৎসা দানে ভুল থাকতে পারে। এক্ষেত্রে দোষটা হোমিওপ্যাথির নয় বরং ডাক্তারের। তাই  প্রযোজন হলে এক ডাক্তারের চিকিৎসায় ফল না পেলে ডাক্তার পরিবর্তন করুন। 
    বিস্তারিত